আল্লাহ বলেন: 'আমিই আল্লাহ, আমি ছাড়া সত্যিকারের কোন ইলাহ নেই, কাজেই আমার ইবাদাত কর, আর আমাকে স্মরণ করার উদ্দেশ্যে নামায কায়েম কর-২০:১৪। নিশ্চয়ই নামায বিরত রাখে অশ্লীল ও মন্দ কাজ হতে। আল্লাহর স্মরণই সর্বশ্রেষ্ঠ-২৯:৪৫। আর যে আমার স্মরণে বিমুখ তার জীবন যাপন হবে সংকুচিত-২০:১২৪। যে ব্যক্তি দয়াময় আল্লাহর স্মরণে বিমুখ হয় আমি তার জন্য নিয়োজিত করি এক (অদৃশ্য) শয়তান, অতঃপর সে হয় তার (মনের) সহচর-৪৩:৩৬। নিঃসন্দেহে আমি অবিশ্বাসীদের জন্য শয়তানকে বন্ধু ও অভিভাবক বানিয়ে দিয়েছি-৭:২৭। আল্লাহই হচ্ছেন বিশ্বাসীদের অভিভাবক। তিনি তাদেরকে অন্ধকার হতে আলোর দিকে নিয়ে যান-২:২৫৭। এই কুরআন সমগ্র জগতবাসীর জন্য উপদেশের ভান্ডার ছাড়া কিছুই নয়-৬:৯০। প্রতিটি প্রাণী মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে। আর অবশ্যই কিয়ামতের দিনে তাদের প্রতিদান পরিপূর্ণভাবে দেয়া হবে-৩:১৮৫। তোমাদের মধ্যে ঐ ব্যক্তিই আল্লাহর নিকট অধিক মর্যাদা সম্পন্ন যে অধিক মুত্তাকী-৪৯:১৩।'

পুরুষরা জান্নাতে হুর পাবে, নারীরা কী পাবে?


টিটকারি করে অনেককে বলতে শুনবেন, 'কি, তোমাদের জন্য জান্নাতে নাকি ৭০টা করে পরি থাকবে? তোমরা নাকি এজন্য মানুষ মারো?'

জান্নাতে হুর পাওয়া নিয়ে লুকোছাপা বা লজ্জার কিছু নেই। আল্লাহ কুরআনে এই ব্যাপারে নিজেই বলেছেন। আমি যখন ইসলামের ব্যাপারে জানতে শুরু করলাম, তখন কিছু বিষয় ছিল যা আমি একা একা বের করতে পারিনি। তার মধ্যে একটা ছিল- পুরুষরা হুর পাবে, নারীরা কী পাবে?


আমার মাথায়ও কিন্তু এই প্রশ্ন এসেছিল। কেন এসব রোমাঞ্চকর পুরস্কার, সুন্দরী স্ত্রী- এই ধরনের জিনিসগুলোর কথা কুরআনে বলা হয়েছে। আর শুধু তাই না; এগুলোর বর্ণনাও খুব বিস্তারিতভাবে এসেছে।

একবার ড. ইসরার আহমেদ রাহিমাহুল্লাহর সাথে খুবই অল্প সময়ের জন্য ব্যক্তিগতভাবে দেখা করে কথা বলেছিলাম। তিনি বেশ রাশভারী চরিত্রের মানুষ ছিলেন। অবশ্য এখন তিনি মারা গেছেন।

তখন তিনি নিউইয়র্কে ছিলেন। আমি ওনাকে প্রথমবারের মতো ওনার মাথার বিশাল টুপিটা ছাড়া দেখেছিলাম। তিনি বেশ আরাম করে বসে ছিলেন। ওনার পাশে আরেক আংকেলও ছিলেন। ওনার চুলগুলো উলটো করে আঁচড়ানো।

আর উনি বসে কীসের চিন্তায় যেন মগ্ন ছিলেন। আমি ওনাকে দেখে বেশ ভয়ই পাচ্ছিলাম। তাঁর পাশে গিয়ে বসলাম। বেশ একটা অস্বস্তিকর নীরবতা। আমার মনে অনেকগুলো প্রশ্ন খুটখুট করছিল। একপর্যায়ে তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম, আল্লাহ কেন কুরআনে হুরের ব্যাপারে বলেছেন?'

তিনি আমাকে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি থেকে কিছু কথা বলেছিলেন, যা আমার কাছে বেশ যৌক্তিক মনে হয়েছে। তিনি এক দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টা ব্যাখ্যা করেছেন। এ ছাড়াও আরেকজন আলেম, তাঁর সাথেও আমার নিউইয়র্কেই দেখা হয়েছিল, তিনি আরেক দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করেছিলেন। যাহোক, সেসব ব্যাখ্যাতে আমি সন্তুষ্ট হয়েছি। আমি জানি না, আপনারা সন্তুষ্ট হবেন কি না। কিন্তু আমি নিশ্চিত আমি সন্তুষ্ট।

তিনি বলেছেন, আমাদের সমাজে ছেলেরা সব সময় আশেপাশে অশ্লীলতা দেখে। নবিজি ওনার উম্মাহর জন্য এই বেহায়াপনা/অশ্লীলতা নিয়ে সবচেয়ে বেশি আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। আর আমাদের ধর্ম অন্যান্য ধর্মের তুলনায় ছেলেমেয়েদের মেলামেশার ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি রক্ষণশীল ও নিয়ন্ত্রিত। সেটা ছেলেমেয়েদের পোশাক-পরিচ্ছদ থেকে শুরু করে দুই বিপরীত লিঙ্গের মাঝে কী ধরনের কথোপকথন হবে, কোনো নন-মাহরামের সাথে একা থাকলে কী হবে, কোনো মজলিশে কী ধরনের আয়োজন হবে- ছেলেমেয়ের জন্য সবকিছুই এর অন্তর্ভুক্ত। এ ক্ষেত্রে অনেক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

এমনকী সূরা নুরে তো কেউ আপনার বাড়িতে এলে কীভাবে ঢুকতে হবে, সেটা পর্যন্ত শেখানো হয়েছে। কেউ দরজা নক করল আর ঢুকে পড়ল- এ রকম হবে না। মহিলাদের আগে নিজেদের ঠিকঠাক করার সুযোগ দিন। আলাদা রুমে যেতে দিন... ইত্যাদি। এত বিস্তারিত নিয়মকানুন বর্ণনা করা হয়েছে যে, দিনের একটা নির্দিষ্ট সময় আছে যখন আপনার সন্তানও এমনকী আপনার রুমে প্রবেশ করতে পারবে না। তাদেরকে বাইরে থেকে নক করতে হবে। বাসার মাঝেও ছেলেমেয়েদের মেলামেশার জন্য কিছু নিয়মাবলি আছে। এটা বেশ চমৎকার একটা ব্যাপার। আপনারা হয়তো এ বিষয়টাও জানেন যে, ছেলেমেয়েরা একটা নির্দিষ্ট বয়সের পর গায়ে দেওয়ার কাঁথাও শেয়ার - করতে পারে না। আমাদের ধর্মে এ রকম অনেকগুলো অসাধারণ বিধিনিষেধ ও সতর্কতা রয়েছে। এটা ভেবে দেখার মতো বিষয়।

আর এটার ঠিক উলটো বিবরণ হচ্ছে জান্নাতের। সেখানে যুবক ছেলেরা সুন্দরী স্ত্রী পাবে। সেখানে কোনো কিছুতে কোনো বাধা থাকবে না। সে যা মন চাইবে তাই পাবে। আর সেই স্ত্রীদের বিস্তারিত বর্ণনাও দেওয়া হয়েছে। ড. ইসরার আহমেদ ঠিকই বলেছিলেন- কোনো ছেলে কলেজে গিয়ে যখন, চোখ নিচু রাখে। যদিও সেখানে খুবই কম কাপড় পরিহিত মেয়েরা থাকে। মেয়েটিকে বলে- 'হেই, কেমন আছো?' কিন্তু সেই ছেলেটি ফিরে তাকায় না। সে বলে, 'আল্লাহ আমার জন্য উত্তম প্রতিদান রেখেছেন।' সে নিজেকে এর থেকে বাঁচিয়ে চলে। যদিও তার উত্তেজিত হরমোনগুলো তাকে বলে, একটু দেখিই না। তার চোখগুলো তার কাছে ভিক্ষা চায় তাকানোর জন্য। তার কৌতূহল তাকে তাকাতে উসকানি দেয়। সেখানে সুযোগ, স্বাধীনতা, যৌবন, তেজ, সৌন্দর্য সবকিছু থাকে তার জন্য। কিন্তু সে বলে, আমি ফিরে তাকাব না, আমি এটা করব না। এ ক্ষেত্রে আমি একটি ভুল পদক্ষেপও নেব না। আল্লাহর কাছে আমার জন্য উত্তম প্রতিদান আছে। তার সব বন্ধু সেই ভুল পথে যায়, কিন্তু সে যায় না।

এটা শুধু আল্লাহর অসাধারণ ন্যায়বিচার যে, জান্নাতে তিনি সেই পানীয় প্রদান করবেন; যা এখানে আমাদের জন্য নিষিদ্ধ। সে আনন্দগুলো প্রদান করবেন, যেগুলো থেকে আমরা নিজেদের এই দুনিয়ায় নিবৃত রাখি। তিনি বলবেন- দেখ, তুমি কীভাবে নিজেকে বিরত রেখেছিলে। এই নাও, এখন উপভোগ করো। আমি তোমার জন্য দরজা অবারিত করে দিলাম। এগুলো হচ্ছে আসলে সেই বাধা-নিষেধের বিপরীত, যেগুলো আল্লাহ এই পৃথিবীতে দিয়েছিলেন। এই জন্য এখানে শালীনতা এত জরুরি। আপনারা জান্নাতে আনন্দ-ফুর্তি করতে চান? তাহলে এখানে নিজের শালীনতা বজায় রাখুন।

আল্লাহ জানেন আমাদের আকাঙ্ক্ষা আছে। তিনি আমাদের চিন্তাগুলোকেও অস্বীকার করেন না। তিনি জানেন, ওয়াসওয়াসা সব সময় আমাদের মনে আসে। সাইকোলজিতে পাবেন, একজন সাধারণ মানুষ এসব বিষয়ে দিনে কতবার চিন্তা করে। আপনারা এটা অস্বীকার করতে পারবেন না। আপনারা জানেন, এটা মানুষের মাঝে আছেই। মানুষের ভেতরে এগুলো আল্লাহই দিয়েছেন। তিনি বলেছেন-

زُيِّنَ لِلنَّاسِ حُبُّ الشَّهَوَاتِ مِنَ النِّسَاءِ.
'মানুষের কাছে সুশোভিত করা হয়েছে নারী।' সূরা আল-ইমরান: ১৪

এখন প্রশ্ন হলো- আল্লাহ যখন পুরুষদের জন্য এমন পুরস্কারের বিবরণ দিয়েছেন, তাহলে নারীদের জন্য কেন দেননি? কোনো রাখঢাক না রেখে যদি বলেন, তাহলে প্রশ্নটা এ রকম যে, পুরুষরা একাধিক স্ত্রী পায়, কিন্তু তারা কেন একাধিক স্বামী পায় না?

আমার এক অভিজ্ঞতার কথা আপনাদের বলি। একবার এক সানডে স্কুলে কিছু কিশোর-কিশোরীকে নিয়ে আমাকে একটি মনস্তাত্ত্বিক পরীক্ষা করতে বলা হয়েছিল। তাদের উভয়কেই একই প্রশ্ন করা হয়েছিল- যদি তোমাকে এমন কিছু চাইতে বলা হয়, যেটা তোমরা পাবে। যতবার ইচ্ছা চাও পাবে, কোনো বাধা থাকবে না। কেউ জানতে পারবে না, তোমরা কোনো সমস্যার সম্মুখীনও হবে না, ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও কোনো দায়বদ্ধতা থাকবে না। তোমরা যা চাও এক্ষুনি পাবে, সেটা কী হবে? কী চাইবে?

এই প্রশ্নটা ১০০ কিশোর ও ১০০ কিশোরীকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। উম্মাহর ছেলেদের মাঝে যেন ইজমা আছে এ ব্যাপারে! বানান ভুল বাদে সেখানে কোনো বৈচিত্র নেই। উত্তরে কোনো বৈচিত্র নেই।

মজার উত্তরগুলো এসেছিল মেয়েদের কাছ থেকে। আরেকটা ব্যাপার হলো- ছেলেদের উত্তর তা-ই ছিল, যা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেছেন-

'মানুষের কাছে সুশোভিত করা হয়েছে নারী।' (কুরআন ৩ঃ১৪)

পুরুষদের মাঝে নারীদের আকাঙ্ক্ষা সহজাত। আল্লাহ পুরুষদের মাঝে এই আকাঙ্ক্ষা দিয়েছেন। এটা যেন তারই প্রমাণ।

মেয়েরা বেশ মজার উত্তর দিলো। একজন বলে, 'আমাকে কি আরও ৫ মিনিট সময় দেওয়া যাবে?' অনেকে আবার তাদের পেপারটা জমা দেওয়ার সময় বলে, 'না, না! আমি কি আমার পেপারটা ফেরত নিতে পারি কারণ, আমার মাথায় অন্য উত্তর এসেছে।' কেউ কেউ একবার কেটে লিখে, তারপর আবার কেটে লিখে। অনেকে একাধিক উত্তর দিয়েছিল কারণ, তাদের একটা উত্তরে হবে না। আমার কাছে প্রিয় উত্তরটি ছিল- 'এটা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে।' অনেকজনকেই এ রকমটা লিখতে দেখলাম।

মেয়েদের কেউ লিখেছে, আমি শুধু আমার মায়ের সাথে থাকতে চাই। আবার কেউ বলেছে পনি (ক্ষুদ্রকায় ঘোড়া)। যাহোক, সব ধরনের উত্তর ছিল।

সব ধরনের উত্তর পেয়েছিলাম। কোনো নির্দিষ্ট একটা উত্তর কিন্তু ছিল না।

আল্লাহ তায়ালা আমাদের পুরুষদের আবেগকে একমুখী বানিয়েছেন। আমরা শুধু একভাবেই চিন্তা করি। সাধারণভাবে বোঝাতে চাইছি যে, অন্যরকম কিছু পুরুষও আছে যারা নারীদের ভালোবাসার থেকেও বইকে বেশি ভালোবাসে। কিন্তু আমাদের বেশির ভাগকেই আল্লাহ একই চিন্তাধারার করেছেন এবং আল্লাহ এখানে সেটার কথাই উল্লেখ করেছেন। ঠিক কি না? আমি বোনদের খুশি করার জন্য বলছি না। এটা আমার নিজের বিশ্বাস। আর আল্লাহ যা বলেছেন, আমি সেটা ব্যাখ্যা করতে লজ্জিতও না। আল্লাহর কালামের ব্যাপারে আমাদের সৎ থাকতে হবে। কাউকে খুশি বা বেজার করা আমাদের উদ্দেশ্য নয়। আমি আল্লাহর কালাম সম্পর্কে যতটুকু বুঝেছি, সেটাই ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করছি।

আমার ব্যক্তিগত মতামত হচ্ছে জান্নাতে নারীদের জন্য পুরস্কার আরও বৈচিত্র্যময়, অনেক বেশি বৈচিত্র্যময়। আমি আপনাদের জন্য একটা আরবি বাক্য শেয়ার করব, 'রুব্বা সুকুতিন আদাল্লু মিন কালামিন' অর্থাৎ নীরবতা অনেক সময় কথা বলার থেকেও বেশি বোঝায়। আল্লাহ তায়ালা নীরব আছেন এই ব্যাপারে কারণ, এই নয় যে পুরস্কার নেই; বরং তা ভাষায় অবর্ণনীয়। আর এই বিষয়টি কুরআনে অন্য ক্ষেত্রেও আছে। বিভিন্ন আমলের জন্য বিভিন্ন পুরস্কার রয়েছে। কিন্তু মাঝে মাঝে কিছু আমল আল্লাহর কাছে এতটাই তাৎপর্যপূর্ণ যে, সেই আমলগুলোর পুরস্কার ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। তো ঐসব আমলের জন্য আল্লাহ কী বললেন? 'ফা আজরুহু আলাল্লাহ'- 'এগুলোর পুরস্কার আল্লাহর কাছে'। এগুলো আল্লাহ দেখবেন। এগুলো ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। আল্লাহ বলেন, তিনি খেয়াল রাখবেন, এই দায়িত্ব তাঁর। প্রসঙ্গক্রমে আরেকটা কথা বলছি। এই ধরনের অবর্ণনীয় পুরস্কার তাদের জন্যও আছে, যারা প্রতিশোধ নেওয়ার ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও অন্যদের মাফ করে দেয়। ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও মাফ করে দিলে সে এই অবর্ণনীয় পুরস্কার পাবে।

নারীদের পুরস্কারের কথা বলা হয়নি, তার মানে এই নয় যে তাদের কোনো পুরস্কার দেওয়া হবে না; বরং এটা ছেড়ে দেওয়া হয়েছে কল্পনার ওপর। প্রসঙ্গক্রমে বলি, কোনো মুসলিম নারী-পুরুষের এমনটা ভাবা উচিত না যে তারা অল্প প্রতিদান পাবে। জান্নাতে যান, আপনারা হতাশ হবেন না।

'পাওয়ার পর যদি পছন্দ না হয়?' আমি শতভাগ গ্যারান্টি দিয়ে বলছি, আপনাদের পছন্দ হবে। এর প্রমাণ কি আপনারা পছন্দ করবেন? সূরা ফুসসিলাতের ৩১ নং আয়াতে আল্লাহ তায়ালা সমগ্র মানবজাতিকে বলেন-
وَلَكُمْ فِيهَا مَا تَشْتَهِي أَنْفُسُكُمْ .
'সেখানে তোমরা যা চাইবে, তা-ই পাবে। এটা সবার জন্য উন্মুক্ত।'

নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যই। যা চাইবেন, সেখানে তা-ই থাকবে এবং তারপর আরও কিছু, তারপর আরও বেশি কিছু।

তারপর আল্লাহ তায়ালা বলছেন-
وَلَكُمْ فِيهَا مَا تَدَّعُوْنَ.
অর্থাৎ, তোমরা যা দাবি করবে, তা-ও সেখানে পাবে। মানে একবার একটা কিছু বলার পর পরে অন্য কিছু মাথায় আসতে পারে। আপনি অন্য কিছু অর্ডার করতে চান। দাঁড়াও, দাঁড়াও... আমি ওটাও চাই। কোনো সমস্যা নেই, আপনি সেটাও পাবেন। এটা এমন না যে, একবার অর্ডার করার পর আর করা যাবে না। আপনাকে সেখানে থেমে যেতে হবে না।
আপনি আপনার মন পরিবর্তন করতে পারবেন। আপনি অন্য কিছু অর্ডার করতে পারবেন, অসাধারণ! জান্নাতের সেই দরজা নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যই খোলা।

[বন্ধন - নোমান আলী খান]
Post a Comment (0)
Previous Post Next Post