আল্লাহ বলেন: 'আমিই আল্লাহ, আমি ছাড়া সত্যিকারের কোন ইলাহ নেই, কাজেই আমার ইবাদাত কর, আর আমাকে স্মরণ করার উদ্দেশ্যে নামায কায়েম কর-২০:১৪। নিশ্চয়ই নামায বিরত রাখে অশ্লীল ও মন্দ কাজ হতে। আল্লাহর স্মরণই সর্বশ্রেষ্ঠ-২৯:৪৫। আর যে আমার স্মরণে বিমুখ তার জীবন যাপন হবে সংকুচিত-২০:১২৪। যে ব্যক্তি দয়াময় আল্লাহর স্মরণে বিমুখ হয় আমি তার জন্য নিয়োজিত করি এক (অদৃশ্য) শয়তান, অতঃপর সে হয় তার (মনের) সহচর-৪৩:৩৬। নিঃসন্দেহে আমি অবিশ্বাসীদের জন্য শয়তানকে বন্ধু ও অভিভাবক বানিয়ে দিয়েছি-৭:২৭। আল্লাহই হচ্ছেন বিশ্বাসীদের অভিভাবক। তিনি তাদেরকে অন্ধকার হতে আলোর দিকে নিয়ে যান-২:২৫৭। এই কুরআন সমগ্র জগতবাসীর জন্য উপদেশের ভান্ডার ছাড়া কিছুই নয়-৬:৯০। প্রতিটি প্রাণী মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে। আর অবশ্যই কিয়ামতের দিনে তাদের প্রতিদান পরিপূর্ণভাবে দেয়া হবে-৩:১৮৫। তোমাদের মধ্যে ঐ ব্যক্তিই আল্লাহর নিকট অধিক মর্যাদা সম্পন্ন যে অধিক মুত্তাকী-৪৯:১৩।'

কুরআনের অনুসরণ

হযরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন:

أَلَا وَإِنَّ رُوحَ الْإِسْلَامِ دَائِرَةً فَدُورُوَامَعَ الْكِتَابِ حَيْثُ دَارَ

শোন, ইসলাম আজ চলমান। সুতরাং আমার কিতাব- আল কুরআন জীবিত। কুরআন তোমাদেরকে যেদিকে নিয়ে যায়, তোমরাও সেদিকেই যাও।

কুরআনকে অনুসরণ করে চলাই এই উম্মতের পথ। কুরআন যেদিকে যেতে বলবে সেদিকে যাবে। আর যে পথে বাধা দেবে সেদিক থেকে বিরত থাকবে। আল্লাহ যা বলেন, তাই করবে। আর যে বিষয়ে নিষেধ করেন তা থেকে পরিপূর্ণরূপে বিরত থাকবে।

হযরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও ইরশাদ করেছেন:

الَاوَإِنَّ الْكِتَابَ وَالسُّلْطَانَ سَيَفْتَرِقَانِ فَلَا تَفَارَقُوا الْكِتَابَ

এমন একটা সময় আসবে যখন আল্লাহর কিতাব আর দুনিয়ার রাজত্ব আলাদা হয়ে পড়বে। তখন তোমরা কিন্তু আল্লাহর কিতাব থেকে আলাদা হয়ে পড়ো না।

হযরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এখানে আমাদেরকে সতর্ক করে দিয়েছেন, শীঘ্রই তোমরা এমন একটি কালের মুখোমুখি হয়ে পড়বে, যে কালে কুরআনের পথ হবে একটি, আর রাজত্ব ব্যবসা-বাণিজ্য ও কৃষি খামারের পথ হবে অন্যটি। তোমরা যদি দুনিয়াকে ধরতে যাও, তাহলে কুরআন ছোটে যাবে, আর কুরআনকে ধরতে গেলে দুনিয়া হাত ছাড়া হয়ে পড়বে। তখন তোমরা কী করবে? হযরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পরিষ্কার ফয়সালা প্রয়োজনে রাজত্ব ছাড়বে, নেতৃত্ব ছাড়বে, বাণিজ্য ছাড়বে, রাজনীতি ছাড়বে, ছাড়বে পদ সম্মানের কুরসী। কিন্তু আল্লাহর কিতাব ছাড়বে না।

لَا تَفَارَقُوا الْكِتَابَ

হযরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন:

أَلَا وَإِنَّهُ سَيُوَلَّى عَلَيْكُمْ أَمْرَاءُ إِنْ أَطَعْتُمُوهُمْ أَضَلُّو كُمْ وَإِنْ خَالَفْتُمُوهُمْ قَتَلُوكُمْ

শোন, শীঘ্রই তোমাদের উপর এমন শাসক আসবে, যদি তোমরা তাদের আনুগত্য কর তাহলে তারা তোমাদেরকে পথহারা করে ছাড়বে। আর যদি বিরোধিতা কর তাহলে তারা তোমাদেরকে হত্যা করবে।

অর্থাৎ শীঘ্রই তোমাদের শাসন ক্ষমতার অধিকারী হবে পথহারা এমন কিছু শাসক যারা তোমাদেরকে পথহারা করবে, তারা নিজেরাও জাহান্নামে যাবে, তোমাদেরকেও জাহান্নামে নিয়ে ছাড়বে। যদি তোমরা তাদের অনুসরণ না কর, তাদের সাথে সুর না মেলাও তাহলে তারা তোমাদেরকে অপমানিত করবে। প্রয়োজনে হত্যা করে ফেলবে। তোমাদের পার্থিব জীবন ধ্বংস করে ছাড়বে।

এ কথা শোনে সাহাবায়ে কেরাম (রা.) আরয করলেন:

قَالُوا : وَمَاذَا نَصْنَعُ يَارَسُولَ اللَّهِ

ইয়া রাসূলাল্লাহ! তাহলে তখন আমরা কী করবো?

ইরশাদ করলেন:

كُونُوا كَالِ عِيسَى

তখন তোমরা হযরত ঈসা (আ.)-এর সঙ্গীদের মতো ধৈর্য ধারণ করবে।

হযরত ঈসা (আ.)-এর সঙ্গীদেরকে শূলিতে চড়ানো হয়েছে, করাত দিয়ে চিরে ফেলা হয়েছে। অন্য একটি হাদীসে আছে—

يُمْشَطُ بِامْشَاطِ الْحَدِيدِ مَادُونَ لَحْمِهِ وَعِظَامِهِ

লোহার চিরুনি দিয়ে আঁচড়ে তাদের হাড় গোশত ছিন্ন করে ফেলা হতো।

তাদের গোশত শরীর থেকে আলাদা করে ফেলা হতো, আর বলা হতো- ইসলাম ছেড়ে দাও। তারা পরিষ্কার ভাষায় জবাব দিতো, আমরা ইসলাম ছাড়বো না। তারপর তাদের শরীর থেকে গোশত আলাদা করে ফেলা হতো।

তথ্যসূত্র:
[আল্লাহকে যদি পেতে চাও–বই]
Post a Comment (0)
Previous Post Next Post