আল্লাহ বলেন: 'আমিই আল্লাহ, আমি ছাড়া সত্যিকারের কোন ইলাহ নেই, কাজেই আমার ইবাদাত কর, আর আমাকে স্মরণ করার উদ্দেশ্যে নামায কায়েম কর-২০:১৪। নিশ্চয়ই নামায বিরত রাখে অশ্লীল ও মন্দ কাজ হতে। আল্লাহর স্মরণই সর্বশ্রেষ্ঠ-২৯:৪৫। আর যে আমার স্মরণে বিমুখ তার জীবন যাপন হবে সংকুচিত-২০:১২৪। যে ব্যক্তি দয়াময় আল্লাহর স্মরণে বিমুখ হয় আমি তার জন্য নিয়োজিত করি এক (অদৃশ্য) শয়তান, অতঃপর সে হয় তার (মনের) সহচর-৪৩:৩৬। নিঃসন্দেহে আমি অবিশ্বাসীদের জন্য শয়তানকে বন্ধু ও অভিভাবক বানিয়ে দিয়েছি-৭:২৭। আল্লাহই হচ্ছেন বিশ্বাসীদের অভিভাবক। তিনি তাদেরকে অন্ধকার হতে আলোর দিকে নিয়ে যান-২:২৫৭। এই কুরআন সমগ্র জগতবাসীর জন্য উপদেশের ভান্ডার ছাড়া কিছুই নয়-৬:৯০। প্রতিটি প্রাণী মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে। আর অবশ্যই কিয়ামতের দিনে তাদের প্রতিদান পরিপূর্ণভাবে দেয়া হবে-৩:১৮৫। তোমাদের মধ্যে ঐ ব্যক্তিই আল্লাহর নিকট অধিক মর্যাদা সম্পন্ন যে অধিক মুত্তাকী-৪৯:১৩।'

সুখী হবার মূল মন্ত্র কি?

শতাব্দীর পর শতাব্দী, দার্শনিকেরা কেবল একটি প্রশ্নের উত্তর খুঁজে চলেছেন।
সুখী হবার মূল মন্ত্র কি?


আজ, আমরা বেশ গুরুত্বপূর্ণ কিছু গবেষণা নিয়ে আলোচনা করব এবং আপনাদের সাথে প্রয়োজনীয় কিছু টিপস শেয়ার করবো, ইনশাআল্লাহ শক্তিশালী, জীবন বদলে দেওয়া কিছু টিপস!


সুখী হবার রহস্য নিয়ে সবসময় জল্পনাকল্পনা হয়েছে। সহস্র বছর ধরে, দার্শনিকেরা এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে চলেছেন। অসংখ্য বই, অসংখ্য আর্টিকেল লেখা হয়েছে। মেধাবী চিন্তাবিদেরা তাদের অসাধারণ বুদ্ধিবৃত্তিতে এই বিষয়ে অসংখ্য বই লিখে গেছেন। কিন্তু ভাগ্যের পরিহাস, তাদের বেশিরভাগই নিজ নিজ জীবনে সুখের দেখা পাননি। তাহলে সুখের মূল মন্ত্র কি? এর কি কোন সোজা উত্তর আছে?


সুখের আসল রহস্য খুঁজে পাবার অসংখ্য দাবি উঠেছে। সেগুলোর মধ্যে একটি দাবি হলো–কারো সুখের সাথে তার অর্থনৈতিক সম্পদের একেবারে আনুপাতিক সম্পর্ক। এই দাবির সমর্থকেরা মনে করেন, একজন মানুষ ঠিক ততটাই সুখী যতটা তিনি ভালো স্বাস্থ্য সেবা অথবা বিলাসবহুল টেকনোলজিতে ভরা লাইফস্টাইলের জন্য খরচ করার সামর্থ্য রাখেন।


না হলে, তারা নিজেদের সমস্যাগুলোর সমাধান করতে পারেন না। তারা শান্তি খুঁজে পান না! তাদের মতে। এসব হয়তো শুনতে ভালো লাগে, কিন্তু ব্যাপারটা ঠিক এভাবে কাজ করে না। অবশ্যই, আমি জানি যে অর্থনৈতিকভাবে মধ্যবিত্ত শ্রেণীর নিচে যারা আছেন তারাও হয়তো মানসিক শান্তিতে থাকেন না। কিন্তু আমি যেটা বলার চেষ্টা করছি সেটা হলো, সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক সচ্ছলতাও কিন্তু সুখের নিশ্চয়তা দেয় না।


এই দাবির পক্ষে প্রমাণ হিসেবে হাজারো মানুষের জীবন আমরা চাক্ষুস দেখতে পাই। যেমন ধরা যাক, 


হুইটনি হিউস্টন, একজন আমেরিকান সংগীত শিল্পী যার ঝুলিতে রয়েছে সর্বকালের সবচেয়ে বেশি অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্ত মহিলা শিল্পী হওয়ার গিনিস রেকর্ড। তিনি দুইটি এমি সহ ছয়টি গ্রামি অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন। এই দুটোই বেশ মর্যাদাপূর্ণ অ্যাওয়ার্ড, তাইনা? এমনকি তার অ্যালবাম গুলোর ১৭০ মিলিয়নেরও বেশি কপি বিক্রি হয়েছে। যিনি ৪১০ টিও বেশি অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন, এবং নিজের ফিল্ডে একটি চমৎকার ক্যারিয়ার তার ছিল। অদ্ভুতভাবে নিজের ক্যারিয়ারের তুঙ্গে থাকা অবস্থায় বেভারলি হিলসের একটি হোটেল সুইটে, তার মৃতদেহ পাওয়া যায়, সেখানে তিনি গ্রামি অ্যাওয়ার্ডস অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করার আগের রাতে অবস্থান করছিলেন। তদন্তে জানা যায় তিনি অতিরিক্ত মাদক গ্রহণে মারা যান! সব ধরনের আর্থিক সচ্ছলতা থাকা সত্ত্বেও, তিনি তৃপ্ত ছিলেন না, তিনি মাদকের সাহায্যে সুখ খুঁজে বেড়াচ্ছিলেন। 


কার্ট কোভিন, বিখ্যাত ব্যান্ড নির্ভানার লিড সিঙ্গার। সুদর্শন, সুপুরুষ, খ্যাতির তুঙ্গে ছিলেন তিনি, তার কনসার্টে লাখো তরুণী প্রশংসায় তার নাম ধরে চিৎকার করেছেন। পৃথিবীতে এমন কিছুই ছিল না যা তিনি নিজের করে পাননি। কিন্তু কিছু একটা কমতি ছিল। তো একদিন তিনি স্ত্রী-পুত্রকে উদ্দেশ্য করে একটি শেষ চিঠি লিখলেন। তারপর নিজের বুকে বন্দুক ঠেকিয়ে নিজেকে শেষ করে দিলেন। তো এই মানুষগুলো পৃথিবীতে সবকিছুই পেয়েছিলেন। তারা যেন সাফল্যের এভারেস্ট চূড়ায় পৌঁছেছিলেন। আমরা যারা চূড়ায় উঠার চেষ্টায় আছি আমাদের ডেকে তারা যেন বলছেন,


“আমি তোমার চাইতে অনেক উপরে উঠে গেছি।” 

“আমি তোমার কল্পনার চাইতেও উঁচুতে উঠে গেছি।”


এখানে আছে; অর্থ, যশ, সম্পদ, সম্পত্তি। কিন্তু আমার মতে–আমাদের এক ভিন্ন খোঁজে নামা উচিত। ধাঁধার সেই হারানো শেষ টুকুটি এখানে নেই। অবশ্যই আরো কিছু আছে, অন্য কোন অর্থ আছে। আমার মনে আছে বিখ্যাত কমেডিয়ান, জিম ক্যারি, একবার বলেছিলেন,


“আমি চাই সবাই একদিন ধনী এবং বিখ্যাত হয়ে উঠুক এবং জীবনে যা যা কিছু চেয়েছিল সবই পাক,

যাতে তারা বুঝতে পারে যে ওটাই সবকিছু নয়।” 


অদ্ভুত, তাইনা?


আরেকটি প্রধান কনসেপ্ট হচ্ছে হেডনিক এডাপ্টেশন। এর মানে কি? মানুষ ভালো খারাপ দুই পরিস্থিতিতেই মানিয়ে নেয়। তাই, কিছু সময় পর, তারা তাদের সুখের পুরনো মাত্রায় ফিরে যান। এই কারণে, উন্নত জীবনযাত্রায় অভ্যস্ত হতে তাদের মাত্র তিন মাস সময় লাগে, এরপর লোকে এতে অভ্যস্ত হয়ে যায়, এবং আগে যেমনটা ফিল করতো এখনো তেমনটাই করে। তো যারা হারভার্ড ইউনিভার্সিটিতে সুযোগ পান, তাদের “আমি হারভার্ডে চান্স পেয়েছি” এই আনন্দ কেবল তিন মাসই টেকে, এবং তিন মাস পর এই অর্জন তাদের জন্য বেশ সাধারণ হয়ে যায়। 


ধরুন, আপনি বছরের পর বছর ধরে চেষ্টা করছেন, এবং অবশেষে আপনি বিশ্বের সবচেয়ে স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করার অধিকার পেলেন কিন্তু তিন মাস পর, আপনার ঠিক আগের মতোই মনে হচ্ছে। এটাই হচ্ছে হাইড্রোনিক এডাপ্টেশন। এই মানিয়ে নেওয়ার মানসিকতা ভালো খারাপ দুই পরিস্থিতির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। আপনি যখন একটা খারাপ খবর পান, আপনি প্রথমবার ঠিক যতটা কষ্ট পান আর তিন মাস পর যে পরিমাণ দুঃখবোধ কাজ করে এর মধ্যে কিন্তু বিস্তর ফারাক রয়েছে। আল্লাহ আমাদের এমন একটি বৈশিষ্ট্য দিয়ে দিয়েছেন যাতে সময়ের সাথে আমাদের কষ্টগুলো কমে আসে এবং আমরা সহজভাবে জীবনে এগিয়ে যেতে পারি।


অন্যদিকে, তিন মাস পর আমাদের সুখগুলো স্বাভাবিক হয়ে আসার পেছনে হিকমা কি?


এটা আমাদের নতুন এক লক্ষ্যের জন্য তৈরি করে, বা আমরা ক্ষণস্থায়ী পৃথিবী থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে শাশ্বতের খোঁজে মনোযোগী হই! না হলে, আমরা পার্থিব জীবনে এতটাই মগ্ন হয়ে যাব যে আর অন্য কিছু নিয়ে ভাবার আমাদের ফুরসত হবে না। আমরা হেডুনিক এডাপ্টেশনের পাল্লায় পড়ে অনন্ত জীবনের কথা ভাবতে ভুলে যাব। এমনকি আপনি যদি হুইটনি হিউস্টন, কার্ড কোবেইন, হন না কেন, আপনি যতই পার্থিব সাফল্যের চূড়াতেই থাকেন না কেন, তিন মাস পর, এসব আপনার জন্য স্বাভাবিক হয়ে যাবে। ঠিক এই কারণটাই তাদের আত্মহননের পথে ঠেলে দিয়েছিল। একেবারে চূড়ায়, যেখানে “আরো” শব্দটার আর কোন মানে হয় না, হেডুনিক এডাপ্টেশনের ফলে তারা সেই উন্নত জীবনযাত্রায় অভ্যস্ত হয়ে যায়। যার কারণে তীব্র হতাশা তৈরি হয়, আর নিজেকে একেবারে সাধারণ মনে করায় তাদের জীবনের আনন্দগুলোই হারিয়ে যায়।


কিন্তু অবশ্যই, এই গোলক ধাঁধা থেকে বেরিয়ে পুরো চক্রটিকে ভেঙে বেরিয়ে আসার কোনো না কোনো রাস্তা আছে। এখন সময় এসেছে সেই রহস্যের পর্দা ফাঁসের এই তথ্যটিকে বলা হয় ফ্লো থিওরি বা প্রবাহ তত্ত্ব। প্রফেসর মিহাই চেকসেন্ট মিহাই–এই তথ্যটিকে এভাবে ব্যাখ্যা করেছেন, 


“কোন কাজ করার সময়, এতে মনোনিবেশ দিচ্ছেন, এতে ডুবে যাচ্ছেন, বাইরের দুনিয়াতে থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন, এবং এমন একটি ধারাতে ঢুকে পড়ছেন যেখানে আপনি টের পাচ্ছেন না কিভাবে সময় চলে যাচ্ছে।”


এটা হচ্ছে একেবারে সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা।


জানেন তো, মাঝে মাঝেই এমনটা হয় আমাদের সাথে। আপনি একটা কাজে তিন-চার ঘন্টা ব্যয় করছেন, কিন্তু আপনার মনে হচ্ছে মাত্র ৩০ মিনিট গেছে (যেমন–টিকটক, ফেসবুক রিলস বা ইউটিউব শর্টস ভিডিও)। একটি ফ্লোতে ঢুকে পড়লে খুব দ্রুত সময় চলে যায়। 


ধরুন, আপনি আপনার প্রিয় ক্লাসে আছেন। কি হয় তখন? আপনি একটি ফ্লোতে ঢুকে পড়েন এবং সেই পিরিয়ডটা বাস্তবের তুলনায় বেশ সংক্ষিপ্ত মনে হয়। অন্যদিকে, যে ক্লাসগুলো আমাদের ভালো লাগে না, যেমন–আমার জন্য সেটা অংকের ক্লাস। সেই ক্লাসগুলো শেষই হতে চায় না। ৪০ মিনিট ও দু’ঘন্টার মতো মনে হয়। একটি ধারাতে ঢুকতে না পারায় একে অত্যাচারের মতো মনে হয়।


সংক্ষেপে বললে, প্রফেসর মিহাই বলছেন, 


“আপনার জীবনে, যদি আপনি নিজেকে এমন কোন কাজে ব্যস্ত রাখেন যেগুলোতে আপনি একটি ফ্লোতে ঢুকতে পারবেন, আপনি সুখী হবেন।” 


যে কাজগুলো আপনাকে একটি ফ্লোতে নিয়ে যাবে সেগুলোতে যুক্ত থাকা সেভাবেই নিজের জীবনকে সাজানোই হলো সুখী হবার মূল মন্ত্র। 


যাই হোক, যেহেতু প্রতিটি মানুষেরই আলাদা পছন্দ, আলাদা রুচি, আলাদা শখ থাকে, তাই কোন কাজগুলো তাদের জন্য প্রবাহ তৈরি করবে সেগুলো আলাদা। অনেকের জন্য এটা ফুটবল খেলা, কারো জন্য এটা ছবি আঁকা, কারো জন্য এটা অ্যাস্ট্রোলজি নিয়ে পড়াশোনা।


ধরুন, ৪০ জনের একটি ম্যাথ ক্লাস চলছে। ক্লাসের প্রত্যেকের জন্য সময়ের প্রবাহ কিন্তু আলাদা হবে। ওই ক্লাসে এমন কেউ কেউ রয়েছেন যারা অংক বোঝেন না, আবার এমনও মানুষ রয়েছেন যারা ভালোবেসে অংক শিখছেন। এবং সেই উদ্দীপনায়, প্রবাহের সেই দশায়, আপনার আবেগ এবং কল্পনা আপনাকে শারীরিক অবস্থান থেকে দূরে নিয়ে যায়। তাই এখন ঘড়ির কাটা, সময় প্রবাহ আপনার ক্ষেত্রে ক্লাসের অন্যদের চাইতে ভিন্নভাবে কাজ করে।


এখন উল্টোটা কল্পনা করা যাক। একটি ফ্লোতে ঢুকতে না পারলে তখন আপনার কেমন লাগে?


ম্যাথ বুঝতে না পারলে আপনার যেমন লাগে এটা ঠিক তেমনি অনুভূতি, অথবা আপনি যাদের পছন্দ করেন না যখন তাদের মাঝে আপনাকে বসে থাকতে হয়, অথবা যখন আপনার অপছন্দের আলোচনায় বসে ইচ্ছে বিরুদ্ধে মাথা নাড়তে হয়। মনে হয় যেন সময়টাই থেমে গেছে। সময় কাটে না উল্টো মন খারাপ করিয়ে দেয়। আমি এরকম একটা কথা শুনেছি, 


“শত্রুর পাল্লায় পড়লে বিস্তর মরুভূমিও চায়ের পেয়ালা-সম, কিন্তু বন্ধুর সাথে থাকলে সুচের ডগাও আস্ত শহর সমান।” 


আপনার বয়স যখন ২২ কিংবা ২৩, আপনার স্কুল জীবন শেষ, এবং আপনি একটা ক্যারিয়ার শুরু করেছেন, এমন একটা কাজ যেখানে সারাজীবন আপনাকে খাটতে হবে। হয়তোবা ৪০ বছর, ৫০ বছর ধরে আপনি কাজ করবেন। কিন্তু আমরা তো ৫০ বছর ধরে কাজ করতে চাই না, চাই কি?


ভেবে দেখুন তো, এমন একটা চাকরি যেখানে সারাজীবন আপনি সেই একটি ধারাতে প্রবেশ করতে পারবেন না?


আপনি কি এমন একটা জীবন চান যেখানে ঘুম থেকে জেগে জীবনের প্রতিটি দিনকে আপনি ঘৃণা করবেন, এমন একটা ব্যবসা যার উপর আপনি বিরক্ত, বা আপনি এমন সব মানুষের মাঝে আছেন যেখানে তাদের পছন্দ না করলেও আপনার মুখে মিকি হাসি রাখতেই হয়। যেমনটা কনফুসিয়াস বলেছেন,


“এমন একটা কাজ খুঁজে নাও যেটা তুমি ভালোবাসো, তখন জীবনে একটি দিনও তোমাকে কাজ করতে হবে না।”


এই কথাটা পুরো (প্রবাহ তত্ত্ব) থিওরিকে খুব সংক্ষেপে বুঝিয়ে দেয়। 


আপনি হয়তো ভাবছেন, এখন আমার কি করা উচিত? 


জীবন আমাকে এই সুযোগ দেয়নি যে কি কাজ করব কোথায় কাজ করব সেটা বেছে নিব। আমি আমার অপছন্দের কাজ করতে বাধ্য হচ্ছি। এই পর্যায়ে আপনার হাতে দুটো অপশন আছে। 


আপনি সব বদলে আপনার পছন্দের কাজকে পেশা হিসেবে নিতে পারেন এবং আপনার উৎসাহটাকে ধরে রাখতে পারেন।


অথবা আপনার লক্ষ্য হতে পারে আপনি আপনার বর্তমান পেশাতেই একটা ধারাতে যাবার চেষ্টা করবেন, এবং আপনি সেই হিসেব মতো আপনার উৎসাহ এবং ফ্লো তৈরি করার চেষ্টা করবেন। আপনি আপনার কাজের বাইরেও একটি লক্ষ্য খুঁজে নিতে পারেন। এটা কোন শখ হতে পারে, যে সময়টা আপনি কোন কাজ করছেন না সেই সময়টার জন্য রেখে দিতে পারেন। শুধু মাথায় রাখতে হবে–উৎসাহ তৈরি করে এমন একটা লক্ষ্য মাথায় রাখা ফ্লো থিওরির একটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তো একটি ফ্লোতে ঢুকতে পারা হচ্ছে সুখী হবার মূল মন্ত্র।


কিন্তু অনেকেই একটি বেশ বড় সমস্যার কথা বলে থাকেন। যার সমাধান এই থিওরিতে পাওয়া যায় না। একে বুঝতে, আমরা তিনটি আলাদা গ্রুপের দিকে একটু নজর দিব। 


  • প্রথম গ্রুপ, নাস্তিক। ঐসব মানুষ যারা সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাস করেন না এবং মনে করেন যে মৃত্যুর পর কিছুই ঘটবে না। তারা বিশ্বাস করেন মৃত্যুর পর তারা নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবেন। 


  • দ্বিতীয় গ্রুপ, মুসলিমেরা। ঐসব মুসলিমেরা যারা আল্লাহ এবং আখিরাতে বিশ্বাস করেন কিন্তু ইসলামী বিধি-বিধান অনুসারে জীবনযাপন করেন না, যারা হারামের সাথে জীবনযাপন করেন এবং ইসলাম চর্চা করেন না। 


  • তৃতীয় গ্রুপ, তারা ধার্মিক, এবং আদর্শবান মুসলিম। যারা আল্লাহ এবং আখিরাতে বিশ্বাস করেন এবং নিজ বিশ্বাস অনুযায়ী জীবনযাপন করেন। 


প্রথম গ্রুপের দিকে আসা যাক,

নাস্তিকেরা। এই দলের মৌলিক বিশ্বাস হচ্ছে যে, তারা বিশ্বাস করেন মৃত্যুর পর তাদের কোন অস্তিত্ব থাকবে না। তাই, এই একটি ধারাতে প্রবেশ করা তাদের জন্য ঠিক লাভজনক হবে না। কারণ যখন তারা এই একটি ধারাতে প্রবেশ করেন, সময় ভীষণ দ্রুত চলে যায়। ৭০ বছরের জীবনও ২০ বছরের জীবন মনে হবে। তাই এই বিশ্বাস অনুসারে, একটি ধারাতে প্রবেশ করা একজন নাস্তিক ২০ বছরের মধ্যেই এই পৃথিবী থেকে হারিয়ে যাবেন। ধারাতে কাটানো প্রতিটি মুহূর্ত তাদের দ্রুত অস্তিত্বহীনতার দিকে ঠেলে দেবে। এটা ঠিক ওই গাড়িটির মতো, যেটা কিনা আগে ঘন্টায় ৩০ কিলোমিটার গতিতে খাদের দিকে যাচ্ছিলো, আর এখন ঘন্টায় ২০০ কিলোমিটার গতিতে এগোচ্ছে। এটা জানার পর, একজন নাস্তিক হয়তো বলবেন–বেশ, তাহলে আমি ফ্লো নিয়ে মাথা ঘামাবো না। কিন্তু সেই ক্ষেত্রে, সময় প্রায় থমকে যাবে, তারা বিরক্ত হয়ে পড়বেন, এবং তারা একটি বিরক্তিকর এবং ক্লান্তিকর জীবনে আটকে পড়বেন যাকে মনে হবে যেন ২০০ বছর লম্বা। দুই ক্ষেত্রেই তারা কিন্তু ক্ষতির সম্মুখীন, এটা তাদের জন্য একটি প্যারাডক্স। 


দ্বিতীয় দলের ক্ষেত্রে,

আমরা এমন একজন মুসলিমের কথা বলছি তিনি ফরজগুলো আদায় করতে পারেন না এবং নিজের নফসের লালসার কাছে হেরে যান। নিশ্চয়ই, আমরা কেউই ভুলের ঊর্ধে নই। আমরা মানুষ, আমরা হাজারো ভুল করি, আমরা হোচট খেয়ে পড়ে আবার উঠে দাঁড়াই। আমরা যে দলটির কথা বলছি, সেখানে এমন সব মানুষ রয়েছেন

  • যারা নিজেদের ভুল শুধরানোর চেষ্টা করেন না,

  • যারা গুনাহ করে ফেলছেন কিনা সে নিয়ে মাথা ঘামান না,

  • যাদের অনুতাপ নেই,

  • যারা প্রায়শ্চিত্ব করেন না।

তাদের জন্য ধ্বংসের ঘন্টা বেজে চলেছে, কারণ কোরআন থেকে আমরা জানি যে, এই ধরনের ব্যক্তিকে যদি আল্লাহ ক্ষমা না করেন, পথের শেষে তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। জাহান্নাম এমন কোন স্থান নয় যেখানে আপনি বলবেন, 


“বেশ আমরা খানিকটা পড়বো এরপর এখান থেকে বেরিয়ে পড়বো।” 


আমি বুঝতে পারিনা, যে মানুষটা এমনকি লাইটারের শিখার উপর পাঁচ সেকেন্ড হাত রাখতে পারে না তিনি জাহান্নামের আগুনকে এতটা হালকা ভাবে কি করে নেন। এই দলটি যদি পৃথিবীতে ফ্লোতে প্রবেশ করেন তখন কি ঘটবে? ৭০ বছরকে মনে হবে ২০ বছর এবং তারা দ্রুত আগুনে নিক্ষিপ্ত হবেন। সেক্ষেত্রে, তাদের ফ্লোতে প্রবেশ করা উচিত কি-না? তেমন এক দ্বিধা বা মস্তিষ্ককে কার্যত নিষ্ক্রিয় করে দেয়।


সবশেষে তৃতীয় দলে,

এমন সব মুসলিম রয়েছেন যেমনটা হয়ে ওঠার জন্য আমরা সবাই দু’আ করি। সেসব মুসলিম যারা আল্লাহর আদেশ ও বিধিনিষেধ মেনে চলতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ, যারা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, এবং যারা হালালের মাঝে জীবনযাপন করেন এবং হারাম থেকে দূরে থাকেন। যেসব মুসলিম গুনাহে লিপ্ত হন, কিন্তু তওবার মাধ্যমে ঘুরে দাঁড়ান এবং এ পথে কায়েম থাকেন। এই দলের লোকজন যখন তাদের জীবনে ফ্লোতে প্রবেশ করেন এবং যারা হালালের মাঝে এক আনন্দময় জীবনযাপন করেন, তাদের ৭০ বছরের জীবন সংক্ষিপ্ত হয়ে আসবে। এই পৃথিবীতে ৭০ বছর বাঁচার পরিবর্তে, তাদের মনে হবে তারা কেবল ২০ বছরের জীবন কাটিয়েছে, এবং তারা দ্রুত অনন্ত জীবনের দিকে ধাবিত হবে। ইনশাআল্লাহ জান্নাত, যেখানে কোন দুঃখ, কষ্ট তাদের নাগাল পাবে না।


সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি আমরা এরই মধ্যে বুঝতে পেরেছি সেটা হলো–কোন মহৎ লক্ষ্য সামনে না থাকলে ফ্লোতে প্রবেশ করা সত্যিই অসম্ভব।


আপনার যখন লক্ষ্যে পৌঁছানোর তারা থাকে, পথে হোচট খেয়ে পড়লেও উঠে দাঁড়ানোর মতো মনোবল থাকে। তাই নিজের জন্য আল্লাহর উত্তম বান্দা হওয়া আর অনন্তের পথিক হওয়ার মতন মহৎ লক্ষ্য স্থির করুন। অন্যথায়, মানুষ যখন নিজের জন্য ক্ষণস্থায়ী লক্ষ্য স্থির করে একসময় সবকিছুই এই পৃথিবীতে ছেড়ে যেতে হবে ভেবে তারা মনোবল হারিয়ে ফেলতে পারে। এটা তাদের সেই প্রবাহ থেকে ছুড়ে ফেলে দেবে। আলহামদুলিল্লাহ, আমাদের ধর্ম এত চমৎকার যে সবচেয়ে কষ্টের মুহূর্তেও আমাদের মনোবল দৃঢ় রাখে। আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, রাসূল (সাঃ) বলেছেন— 


“মুমিনদের ওপর এমন কোনও বিপদ নেমে আসে না, যার দ্বারা আল্লাহ তাদের গুনাহ ঝরিয়ে না নেন, এমনকি সেটা একটা কাঁটা ফুটে যাওয়াই হোক না কেন।” (বুখারী, ৫৬৪০; মুসলিম, ২৫৭২)


সুবহানাল্লাহ। আপনি কষ্ট পেয়ে অধৈর্য হয়ে উঠে বলেন, “আমাকে কেউ বোঝেনা।” কিন্তু আপনার কষ্টগুলোই গুনাহের কাফফারা দেয় যতক্ষণ না পর্যন্ত আপনি বিপদকামী হন। 


প্রিয় ভাই,

মনে রাখবেন, একদিন আপনার জীবনের অবসান ঘটবে এবং আল্লাহর রাস্তায় যে কাজগুলো আপনি করেননি সেগুলো শূন্য দিয়ে গুণ হয়ে মিলিয়ে যাবে। কিন্তু আল্লাহর ওয়াস্তে যে কাজগুলো করেছেন সেগুলো আখিরাতে সঙ্গে যাবে এবং চিরস্থায়ী হবে। সেগুলো আপনার অনন্ত জান্নাতে যাবার পাথেও হবে। তাই হালাল পরিমণ্ডলে থাকা, বিশ্বাসী পরিমণ্ডলে থাকা, সব ধরনের মনোকষ্টকে সারিয়ে তোলার প্রেরণা দেয়। প্রফেসর মিহাইলের মতে, 


“ফ্লোতে প্রবেশ করার জন্য শুধুমাত্র সঠিক পেশা বেছে নেওয়াই যথেষ্ট নয়, কারণ আপনি যদি সবসময় একই কাজ করতে থাকেন একই ধরনের বাধার মুখোমুখি হতে থাকেন, আপনি এতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন এবং এটা একটা অভ্যাসে পরিণত হবে। আপনাকে অবশ্যই পরবর্তী ধাপে পৌঁছাতে হবে যাতে আপনার মস্তিষ্ক নতুন কিছু আবিষ্কার করে ডোপামিন রিলিজ করে এবং এই ফ্লোটাকে চালিয়ে যেতে পারে।”


ধরা যাক,

যেকোনো গেম, সুপার মারিও গেম খেলছেন আপনি। আপনি একটি ধারাতে প্রবেশ করেছেন। আপনি যদি প্রথম লেভেলটাই বারবার খেলতে থাকেন, আপনি আর কোন মজাই পাবেন না এবং ফ্লো থেকে বেরিয়ে যাবেন। আপনি যতই লেভেল এবং স্টেজগুলো পার করতে থাকবেন, গেমে আপনার আনন্দ বাড়তেই থাকবে এবং আপনি আবারো একটি ধারাতে ঢুকে পড়বেন। এখানে বলে রাখি, যখন বাধাগুলো বাড়তে থাকবে, খেয়াল রাখুন, লক্ষ্যগুলো যেন এমন না হয় যা অর্জন করাই সম্ভব নয়। সেগুলো যৌক্তিক, বাস্তু ধর্মী লক্ষ্য হওয়া প্রয়োজন, না হয় ব্যর্থতা আপনার মনোবল ভেঙে দেবে।


এই প্রবাহ তত্ত্ব বা ফ্লো থিওরিতে নতুন একটি পাতা যোগ করা যাক। ইবাদতকালীন একটি ধারাতে প্রবেশ করা। যেটা কিনা সবচেয়ে উপকারী অংশ। একজন বিশ্বাসীর জন্য, শুধুমাত্র সুখী হতে একটি ধারাতে প্রবেশ করা একমাত্র লক্ষ্য হতে পারে না। অন্যথায়, সময় প্রবাহ আমাদের তীব্র গতির জীবনকে ভীষণ গতিতে বৃদ্ধ বয়সে পৌঁছে দিবে। সাথে লক্ষ্যহীন কর্মের ঝুলি। আপনি যদি আধ্যাত্মিক পথে একটি ধারাতে প্রবেশ করেন, আপনি যদি একটি ইবাদতময় জীবনযাপন করেন, যখন আপনি ৭০ বছর বয়সে পৌঁছাবেন, তখন নিজেই নিজেকে বলবেন,


“আলহামদুলিল্লাহ, আমার জীবনকাল কোরআনের সেবায় ব্যয় করেছি, আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য বেঁচেছি।”


“আমি আমার রবের নির্দেশ মেনে চলতে সংগ্রাম করে গেছি। সেই সময়টা এত দ্রুত গিয়েছে যে, আমি টেরি পাইনি কখনো ফুরিয়ে এলো।”


আলহামদুলিল্লাহ, আমার সময় বৃথা যায়নি। এর সবটুকুরই পরিণাম আখিরাতে পাবো, ইনশাআল্লাহ।


তাউস আল ইয়ামিনী নামে এক ব্যক্তিকে আমার মনে পড়ে, তাবেঈদের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইমাম ছিলেন। তিনি ৪০ বছর ধরে এই ব্যক্তি এশার নামাজের ওযু দিয়ে ফজরের নামাজ আদায় করে গেছেন। অন্যভাবে বললে, তিনি এশা থেকে ফজর পর্যন্ত, টানা ইবাদত করে গেছেন।


কোন একটি ধারাতে প্রবেশ না করে কি ৪০ বছর ধরে এমনটা করা সম্ভব?


অবশ্যই তিনি একটি ধারাতে প্রবেশ করেছিলেন। আপনি হয়তো ভাবছেন কি করে তিনি ৪০ বছর ধরে টানা ১০ ঘন্টা ইবাদত করলেন? তিনি কি আগ্রহ হারাননি? সত্যি বলতে, একটি ধারাতে প্রবেশ করায় ওই সময়টা তার জন্য দীর্ঘ ছিলই না। মনে হতো যেন দুই বা তিন ঘন্টা, ১০ ঘন্টা নয়। তিনি আগ্রহ হারাননি, বরং সেই সময়টায় তিনি আধ্যাত্মিকভাবে উঁচু স্তরে উন্নীত হয়েছিলেন। এখানে আরো বলে রাখি, তাউস আল ইয়ামিনই একমাত্র ব্যক্তি ছিলেন না। তাওস আল ইয়ামিনের মত আরো হাজারো মানুষ রয়েছেন। কিন্তু তাহলে কেন আমরা তার মত করে এবাদত করছি না? আমরা তো প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত ইবাদতই কষ্ট হয়ে যায়, যেখানে কিনা মাত্র এক ঘন্টার মতো ব্যয় হয়, তাই না?


এর ব্যাখ্যাটিকে এইভাবে প্রকাশ করা যাক—ইবাদতের অধ্যাবসের সময়কাল। যখন আমরা ইবাদতে অধ্যাবস্যায় সেই সীমায় পৌঁছানোর মত সংকল্প করতে পারি না, আমরা সেই মাত্রা পার করে সামনেও যেতে পারি না। 


প্রথম প্রথম, প্রতিদিন দুই পাতা কোরআন পড়তেও আপনার কঠিন মনে হবে, কিন্তু যখন আপনি আরেকটু এগিয়ে প্রতিদিন ২০ পাতা পড়াকে আপনার লক্ষ্য করে নিবেন, অবশ্যই, শুরুতে আপনার বেশ কঠিন মনে হবে, কিন্তু যখন আপনি ধৈর্য এবং অধ্যাবসের সাথে ইবাদত চালিয়ে যাবেন, যখন আপনি কিছুদিন নিজের উপর জোর করে এমনটা চালিয়ে যাবেন, আপনি হঠাৎ দেখবেন সহজেই এমনটা করতে পারছেন। এরপর, দুই পাতা কোরআন তেলাওয়াত, যেটা আপনার কঠিন মনে হচ্ছিল, সেটা আর কঠিন মনে হচ্ছে না।


হ্যাঁ, এই পর্যায়ে আপনি সেই সীমা পার করে ফেলেছেন। শুধু একবার প্রথম তারাবি এবং শেষ তারাবির কথা মনে করে দেখুন। দুটো কি একই ছিল?


তাই যখন আপনি ইবাদতের ধৈর্যের মাত্রা বাড়িয়ে দেন, এমনকি শুরুতে যদি এটা কঠিন মনে হয়, শেষে এসে সেটা স্বাভাবিক হয়ে যায়। হেডনিক এডাপশনের কথা মনে করে দেখুন। ইবাদতে এই প্রবাহ সুশীতল।


প্রিয় ভাইয়েরা,

আগামী ১০০ বছরে এমন একজনও থাকবে না যাদের আপনার নাম মনে থাকবে, এই পৃথিবীর মাটিতে পা ফেলতে জুতোই এই মুহূর্তে যে পা গুলিয়েছেন, সেটা আর আপনার থাকবে না। অন্য কেউ সেটা ব্যবহার করবে। আপনি উপর থেকে নিচে পৌঁছে যাবেন, মাটির গভীরে। ঠিক যেমনটা মাটির বুকে বীজ লুকিয়ে থাকে এবং এক নতুন প্রাণের জন্ম দেয়। তাই মানুষও মাটির গভীরে চলে যাবে এবং নতুন জীবন শুরু করবে। আমাদের জান্নাত অর্জন করতে হবে। আর অন্য কোন পথ নেই। তাই আজ, চলুন জীবনে এমন একটা কিছু যোগ করি যার সাহায্যে ইবাদতে একটি ধারাতে প্রবেশ করতে পারবেন।


কিন্তু এখন থেকে, আমাদের এই থিওরির নাম ফ্লো থিওরি থাকবে না। বরং এটা তত্ত্বের প্রবাহ বা অনন্তের দিকে প্রবাহিত হয়। আমরা যদি ঠিক পথে প্রবাহে মিশে যেতে পারি, আমরা আর মৃত্যুর পরে জান্নাতে প্রবেশের জন্য ৪০ বছর অপেক্ষা করবো না। আমাদের মনে হবে যেন পাঁচ বছর কারণ আমরা প্রবাহে মিশে গেছি। চলুন ভাইয়েরা, এই দোয়ায় আমিন বলি। —আমিন!


তথ্যসূত্র:

[টোয়ার্ডস ইটার্নিটি]


Post a Comment (0)
Previous Post Next Post